৮ মার্চ নারী দিবস: মাহমুদা রিনি

৮ মার্চ নারী দিবস: মাহমুদা রিনি

বাংলা ডেস্ক: ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপি দিবসটি পালিত হয় নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও সমতার ভিত্তিতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সমঅধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। শুভেচ্ছা সকল নারী এবং নারী অধিকার ও সমতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষকে।
বিশ্বব্যাপি নারী যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, অবহেলিত, বঞ্চিত, পুরুষ দ্বারা পরিচালিত একটা জনগোষ্ঠী- নারী দিবস পালনই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। নারী দিবস পালন কোন উৎসব নয়, ‘অধিকার আদায়’ সংগ্রামের পথে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক মাত্র।

নারী পুরুষের মতই সমানভাবে মানুষ! বরং অনেক ক্ষেত্রেই নারী বহুগুণে পুরুষের থেকে এগিয়ে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা বা এখনো চলমান দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারী নিজেও তা উপলব্ধি করতে ভয় পায়।
অথচ আমরা যদি নারীর জীবন চক্র খেয়াল করি- নারীর অবয়ব প্রতি ধাপে সৃষ্টিকে বহন করে। তার শারীরিক গঠন, মানসিক সৃজনশীলতা সৃষ্টিকেই লালন করে। সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে নারী ১০/১২ বছর বয়সে ঋতুমতী হয়। যা আমাদের সামাজিক পরিবেশে অত্যন্ত লজ্জার বিষয় বা গোপন রাখতে হবে এমন ভাবধারায় আমাদের মনোজগতে প্রতিষ্ঠিত। অথচ এই বয়স থেকেই নারীর শরীর তৈরি হয় সৃষ্টিকে বহন করার জন্য। পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি নারী শরীরের যে অংশ গুলোকে অপদস্ত করে একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় প্রত্যেকটা অংগ প্রত্যঙ্গই সৃষ্টি মানুষের জন্ম এবং লালনের উদ্দেশ্যে।

প্রতিটি ধর্মীয় বিধান অনুসারে নারীকে সম্মান করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেন সম্মান করতে হবে , তার যথাযোগ্য মর্যাদার জায়গাটি ঠিক কোথায় তার সঠিক নির্ণয়, নির্দেশনা বা প্রয়োগ হয় না। মা সম্মানের, বোন আদরের, আর বউ দাসী বাদী যাই হোক না কেন- অবস্থাদৃষ্টে সব নারীই পুরুষের অধীনস্থ।

আমরা যদি আদিম যুগে যখন সভ্যতার বিকাশ ঘটেনি তখনকার ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করি। তখন গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে মানুষ বসবাস করতো। প্রতিটা গোষ্ঠীরই নিয়ন্ত্রণ করতো গোষ্ঠী প্রধান নারী। কারণ হিসেবে নারীই সন্তান জন্ম দিয়ে জনবল বৃদ্ধি করে এবং ঐ গোষ্ঠীকে পরিচালনা করে। পুরুষ সদস্যরা আহার সংগ্রহ ও যাবতীয় কায়িক পরিশ্রমের কাজ করতো।

ধীরে ধীরে সভ্যতার উন্নতি ও বিকাশের সাথে সাথে কিছু অসভ্যতা পুরুষের বিবেকে আশ্রয় নিতে থাকে। সৃষ্টিশীল নিয়মেই নারীর সাময়িক দুর্বলতাকে ভিত্তি করে নারীকে তার অধিকার থেকে বিচ্যুত করা শুরু হয়! পুরুষের যে পেশীশক্তি নারীকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য। সেই পেশীশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একসময় তারা নারীকে বন্দী বা অসহায় করে ফেলে। সৃষ্টি রহস্যের সবগুলো দিক ভালোভাবে পর্যালোচনা করলে এটা প্রমাণ হয় যে। নারীকে সহযোগিতা, নারীর মনোরঞ্জন ও সহঅবস্থানের ব্যবস্থা করাই সৃষ্টিশীল পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে পুরুষের প্রধানতম ভুমিকা হওয়া উচিৎ।

কিন্তু আমরা দেখি ঠিক তার উল্টো। পুরুষ তার হরণ করা ক্ষমতার বলে নারীকে এমনভাবে অথর্ব করে ফেলেছে। যা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে শত শত বছর নারীকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
আমরা আশা করি; নারী মানুষ, নারী তার সমঅধিকার অবশ্যই একদিন অর্জন করবে। নারী পুরুষের সাথে সমতায় বিশ্বাসী। কোন ভাবেই পুরুষকে ছোট করা নারীর উদ্দেশ্য নয়। মানসিক, শারীরিক, মেধা ও মননে, কর্মে ও চিন্তায় নারী পুরুষের সমান যোগ্যতার অধিকারী।

নারী- পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাক! আমরা নারী দিবসে অধিকার নিয়ে সংগ্রাম না করে স্মৃতিচারণ করার যোগ্যতা অর্জন করি।

লেখক: মাহমুদা রিনি
অর্থ সম্পাদক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, যশোর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here