সি প্রোগ্রামিং এর প্রাথমিক ধারণা

30
প্রোগ্রামিং এর প্রাথমিক ধারণা

আজকের দিনে বহু ধরনের কম্পিউটার আমরা হরহামেশাই ব্যবহার করে চলেছি। আপনার বাড়িতে কিংবা কর্মক্ষেত্রে যেমন আপনি দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যবহার করছেন ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ, তেমনি আপনার পকেটে বা হাতের মুঠোয় যে মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট রয়েছে সেগুলোও কিন্তু এক একটি কম্পিউটার।

সকল ডিজিটাল কম্পিউটারই আসলে একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস যা তথ্য বা ইনফরমেশন সংরক্ষণ করা, এক যায়গা থেকে অন্যত্র পাঠানো ও এই তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বা প্রসেস (Process) করে নানা কাজ করে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ডাটা এই কম্পিউটার প্রসেস করে থাকে। যেমনঃ

সংখ্যা বা numeric data (গাণিতিক, বৈজ্ঞানিক উপাত্ত ইত্যাদি)
টেক্সট বা character data (লিখালিখি, নাম-ঠিকানা, তথ্য ইত্যাদি)
ভিস্যুয়াল বা graphic data (ভিডিও, ছবি, এনিমেশন, চার্ট ইত্যাদি)
শব্দ বা audio data (গান ইত্যাদি)
ইত্যাদি

কম্পিউটার কিভাবে ডাটা প্রসেস করবে অথবা তা নিয়ে কি কাজ করে দিবে, তা কম্পিউটারকে বিশেষ সাংকেতিক ভাষায় কমান্ড (Command) বা নির্দেশ হিসেবে লিখে দিতে হয়। আর এই কাজটিকেই বলা হয় প্রোগ্রামিং। যিনি এই কমান্ডগুলো কম্পিউটারের বোধগম্য ভাষায় লিখে এর মাধ্যমে কম্পিউটারকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেন অথবা অন্য সাধারণ মানুষ যেন ঐ কাজটি কম্পিউটারকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে তার জন্য প্রোগ্রামটি তৈরি করেন, তাকে বলা হয় প্রোগ্রামার। আর যে ভাষায় তিনি কম্পিউটারকে এই নির্দেশগুলো লিখে দেন, তাকে বলা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা প্রোগ্রামিং ভাষা। এরকম বেশি কিছু ভাষার উদাহরণ হলঃ C, C++, Java, Python, C#, Go ইত্যাদি। এই এক একটি ভাষা দিয়ে আমরা বিভিন্ন রকম কাজ করতে পারি। তবে প্রোগ্রামিং ভিত্তিকে শক্ত করার জন্য C প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন প্রোগ্রামার চাইলে তার নির্দেশ বা কমান্ডগুলোর সমন্বয়ে যে প্রোগ্রাম, সে প্রোগ্রামটিকে কম্পিউটারেই সেভ করে রাখতে পারেন। যেন পরবর্তীতে যেকোনো সময় সেটিকে ব্যবহার করা যায়। একটি সেভ করা প্রোগ্রামকে যখন চালানো হয় তখন তাকে বলা হয় রান (Run) করা বা এক্সিকিউট (Execute) করা। একটি প্রোগ্রাম একবার লিখে অসংখ্যবার এক্সিকিউট করা যায়। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য একটি প্রোগ্রাম একবার লিখে নিলেই যথেষ্ট, তারপর সেটিকে বারবার একই কাজ করতে ব্যবহার করা সম্ভব।