আশায় মানুষ বেঁচে থাকে – অনন্যা মজুমদার

0
বসন্তের দুপুর

চারপাশ নির্জন। আমার গ্রামটা যেন বিজন মূর্তি ধারণ করেছে। চারপাশে শুধু পাখির কোলাহল। পাখিরা সব আপন সুরে গান ধরেছে। বসন্তের দুপুর গুলো সাধারণত এমনই হয়। বসন্তের দুপুরে নিজেকে খুব একা মনে হয়। অনেকেই পরিশ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয়। একাকী দুপুরে কোনো মানুষ আমাকে সঙ্গ না দিলেও প্রকৃতি আমাকে সঙ্গ দেয়। বসন্তের দুপুর বেলা প্রকৃতির অপরূপ রূপে সাজ।
আমাদের বাড়ির পাশে শিমুল গাছে শত শত প্রজাপতি আসে মধু সংগ্রহের জন্য। আমি দুপুরবেলা গাছটির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। আহ! সে কি দৃশ্য। শত প্রজাপতির মিলনমেলা মেলা যেন শিমুল গাছটা। বাতাসে ভেসে আসছে আমের মুকুলের গন্ধ। এই সুন্দর দুপুরে আমার প্রকৃতির কাছে থাকতে খুবই ভালো লাগে।

বসন্তের দুপুর বেলা অনেকে পরিশ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয়, কেউ বা ঘুমিয়ে পড়ে। দুপুরের পরেই আবার সবাই জেগে উঠবে। সবাই সবার কাজ করবে। সবাই সবাইকে ভালবাসবে। কেউ কেউ তাদের প্রিয় মানুষগুলোর সাথে গল্প করবে কিংবা ঘুরতে যাবে। অনেক দাদা তার প্রিয় বোনকে নিয়ে কফি হাউজে যাবে অথবা অন্য জায়গায়। এই কথা গুলো মনের মধ্যে উকি দিলে দুপুরগুলো আরো আনন্দঘন হয়ে উঠে। আজকাল এই উপভোগ্য দুপুরগুলো আমার কাছে দু:খজনক হয়ে উঠেছে। এখন দুপুরগুলোতে মনে হয় কেউ বুজি আর জেগে উঠবে না। কোনো দাদা তার এই বোনকে ভালবাসবে না। কখনো ভাবি, আমি হয়ত ভুল ভাবি। শুধু আমার দাদাই আমাকে ভালবাসবে না।

লেখক: শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here