যেভাবে মোবাইল ফোন কাজ করে

538
যেভাবে মোবাইল ফোন কাজ করে

কেউ বলেন মোবাইল ফোন, অনেকেই ভালবেসে বলেন মুঠোফোন। পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে তারবিহীন এক ফোন। মোবাইল অর্থ ভ্রাম্যমান বা “স্থানান্তরযোগ্য”। এই ফোন সহজে যেকোনও স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন মোবাইল অপারেটররা তাদের সেবা অঞ্চলকে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজ ইত্যাদি আকারের অনেকগুলো ক্ষেত্র বা সেলে বিভক্ত করেন। সাধারণত ষড়ভুজ আকৃতির সেলই বেশি দেখা যায়। এই প্রত্যেকটি অঞ্চলের মোবাইল সেবা সরবরাহ করা হয় কয়েকটি নেটওয়ার্ক স্টেশন (সচরাচর যেগুলোকে আমরা মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার হিসেবে জানি) দিয়ে। নেটওয়ার্ক স্টেশনগুলো আবার সাধারণত সেলগুলোর প্রতিটি কোণে অবস্থান করে। অনেকগুলো সেলে বিভক্ত করে সেবা প্রদান করার কারণেই এই সেবাকে অনেকে “সেলফোন” বলে। মূলত মোবাইল ফোন বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। একটি ভৌগোলিক এলাকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযোগ দিতে পারে নেটওয়ার্ক স্টেশনগুলো । শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক মোবাইল ফোন দিয়ে আরো অনেক সেবা গ্রহন করি। এর উদাহরণ আমরা সকলেই জানি।

মোবাইল ফোন ঠিক কবে থেকে শুরু হল? তা ঠিক হিসাব করে বলা মুশকিল৷ তবে প্রথম যে দুটি টেকনলজি এর পূর্বপুরুষ তা হল রোডিও এবং টেলিফোন ৷ এই দুটির সংমিশ্রন ও আধুনিক রুপই হল আজকের মোবাইল ফোন ৷ টেলিফোন আবিষ্কার করেন গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ সালে এবং এর ১৮ বছর পরে ১৮৯৪ সনে মার্কনি রেডিও আবিষ্কার করেন৷

ডঃ মার্টিন কুপার এবং জন ফ্রান্সিস মিচেলকে প্রথম মোবাইল ফোনের উদ্ভাবক বলা হয়। তাঁরা ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে প্রথম সফলভাবে একটি প্রায় ১ কেজি (২।২ পাউন্ড) ওজনের হাতে ধরা ফোনের মাধ্যমে কল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে মোবাইল ফোনের প্রথম বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে আসে। ফোনটির নাম ছিল মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স।

সেলুলার ফোন বা মোবাইল ফোন প্রথম দিকে জাহাজ এবং ট্রেন থেকে এনালগ রেডিও কমিউনিকেশনের সাহায্যে ব্যবহার করা হত। মোবাইল ফোন নির্মাতারা তাদের ফোনকে বিশেষায়িত করার জন্য অনেক আকর্ষনীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিনিয়ত যোগ করে। সকল মোবাইল ফোনেরই কয়েকটি প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অপরিহার্য অঙ্গ। এগুলো হচ্ছে –
তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারী – ফোনের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
কী প্যাড – কোন ইনপুট পদ্ধতি যার সাহায্যে ফোন ব্যবহারকারীর সাথে ফোনের মিথস্ক্রিয়া বা দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ সম্ভব হয়। সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ইনপুট পদ্ধতি হচ্ছে কী প্যাড তবে ইদানীং স্পর্শ কাতর পর্দা বা টাচ স্ক্রীন তুমুল জনপ্রিয়।

সাধারন মোবাইল ফোন দ্বারা ব্যবহারকারী কথা বলতে বা খুদে বার্তা পাঠাতে পারেন। জিএসএম ফোনগুলোয় সিম কার্ড থাকে। কিছু কিছু সিডিএমএ ফোনে রিম কার্ড থাকে। প্রতিটি স্বতন্ত্র ফোনের জন্য একটি করে স্বতন্ত্র আইএমইআই (IMEI) নাম্বার থাকে। আইএমইআই (IMEI) নাম্বার দিয়ে ওই ফোনটিকে সনাক্ত করা যায়।

নিম্নস্তরের মোবাইল ফোনকে প্রায়ই ফিচার ফোন বলা হয় এবং এগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক টেলিফোন যোগাযোগ সুবিধা দেয়। কিছু মোবাইল ফোন আরও অগ্রসর সুবিধা এবং কম্পিউটারের মত সেবা প্রদান করে, যা স্মার্ট ফোন নামে পরিচিত।

মোবাইল ফোন কিভাবে কাজ করে?

একটি শহর বা জায়গাকে মোবাইল কোম্পানি অনেকগুলি সেল (Cell) এ ভাগ করে নেয়৷ সাধারণত প্রতিটি সেলে ১৬ বর্গকিমি’র সমান। প্রতিটি সেলে ৮০০ টি Frequency তে কথা বলা যায়৷ প্রতিটি শহরে একটি সেন্ট্রাল অফিস থাকে যা বেস ষ্টেশন বা টাওয়ার গুলির সাথে যোগাযোগ রাখে ৷ এই সেন্ট্রাল অফিসগুলিকে Mobile Telephone Switching Office (MTSO) বলে ৷  মোবাইল ফোন ও বেস ষ্টেশন Low powere transmissins ব্যবহার করে ৷ ফলে মোবইল ফোন অল্পক্ষমতার ব্যাটারি দিয়ে চলতে পারে।

যখন আমরা মোবাইল অন করি, তখন এটি কন্ট্রোল চ্যানেলের মাধ্যমে SID (System Indentification Code) গ্রহণ করে এবং তা মোবাইল ফোনের ভিতরের এর সাথে মিলিয়ে দেখে৷ এছাড়া এটি MTSO এর সাথেও যোগাযোগ রাখে ৷ সেন্ট্রাল অফিস মোবাইল ফোনের অবস্থান একটি ডাটাবেস-এ রাখে ৷ আপনি কখন কোন সেলে থাকছেন তা সেন্ট্রাল অফিস এর ডাটাবেসে থাকে ৷ যখনই কেউ আপনাকে ফোন করে, তখন এই সেন্ট্রাল অফিস তার ডাটাবেস থেকে বাহির করে আপনি কোন টাওয়ারের কাছাকাছি আছেন এবং সেই টাওয়ার থেকে আপনার মোবাইলের ফ্রিকিয়েন্সিতে যোগাযোগ করে দুইজনের সাথে যোগাযোগ করে দেয় ৷ তখন আমরা কথা বলতে পারি।

মোবাইল ফোনের আরেকটি বড় সুবিধা হল আপনি গাড়িতে কিংবা অন্য কিছুতে চলমান থাকলেও কথা বলতে পারবেন৷ আপনি যখন কথা বলতে বলতে একটি সেল থেকে অন্য একটি সেলের দিকে এগুতে থাকেন, তখন বর্তমানে ব্যাবহার করা টাওয়ারটি থেকে দূরত্ব বেড়ে যাবার কারণে অন্য টাওয়ারটির সাথে সংযোগ স্থাপন করে। আপনি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে গেলেও নির্বিঘ্নে আপনার কথোপথন চালিয়ে যেতে পারেন৷

মোবাইল দেখতে ছোট হলেও এতে মুহুর্তের মধ্যে এত কিছু করে ফেলতে পারে। মোবাইল ফোনের ভেতরে রয়েছে DSP(Digital Signal Processor)। যার কারনে আজকের মোবাইল এত স্মার্ট।

মোবাইল ফোনের কিছু গুরুত্বপুর্ণ টার্ম:

ডুপ্লেক্স চ্যানেল (Duplex channel) কি?
মোবাইল ফোন ডুপ্লেক্স চ্যানেল (Duplex channel) ব্যাবহার করে ৷ ওয়াকিটকি সিঙ্গেল চ্যানেল ব্যাবহার করে ৷ যার ফলে শুধু মাত্র কথা বলা কিংবা শোনা সম্ভব ৷ এক সাথে দুইজনেই কথা বলা ও শোন সম্ভব নয় ৷ যেমন ওয়াকিটকি তে সার্জেন্টরা কথা বলা শেষ করে ওভার শব্দটি বলে ৷ তা শুনে অপরপক্ষ তখন কথা বলে ৷ কিন্তু মোবাইল ফোনে ডুপে-ক্স চ্যানেল ব্যাবহার হবার কারণে, আপনি ফোনের মতই এক সাথে কথা বলতে ও শুনতে পারেন৷

GSM কি?
জিএসএম একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড যা মূলত ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা ও অষ্ট্রেলিয়াতে বহুল পরিমানে ব্যাবহৃত হয় ৷ বাংলাদেশে এই জিএসএম এর প্রচলন খুব বেশী ৷ গ্রামীণ ফোনও এই জিএসএম ব্যাবহার করে ৷ জিএসএম ইউরোপ ও এশিয়াতে ৯০০ মেগাহার্জ থেকে ১৮০০ মেগাহার্জ এ চলে এবং আমেরিকাতে ১৯০০ মেগাহার্জ এ চলে ৷ জিএসএম ফোন কিনে আপনি বাংলাদেশে ব্যবহার করতে হলে আপনাকে শুধু সিম কার্ড SIM (Subscriber indenification module) কিনতে হবে ৷ এই সিম কার্ড মূলত মোবাইল কম্পানির সংযোগ আইডি ও ব্যাবহারকরীর তথ্য সংরক্ষীত একটি সংযোগ ৷

(বিস্তারিত আসছে…)