বিশ্বের প্রথম ওয়েব পেজের ৩০ বছর পুর্তি

103
বিশ্বের প্রথম ওয়েব পেজের ৩০ বছর পুর্তি

অন্তর্জালে প্রবেশ করতে চাইলে আপনার তিনটি ডব্লিউ এর প্রয়োজন হবে। ‘তিন ডব্লিউ’ মানে ডব্লিউ ডব্লিউ ডব্লিউ বা (world wide web) বিশ্বব্যাপী অন্তর্জাল । ২০১৯ সালের ১২ মার্চ ছিল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা বিশ্বব্যাপী অন্তর্জালের ৩০ বছর পদার্পনের দিন।অন্তর্জাল বিশ্বের প্রথম ওয়েব পেজে, ছিল না কোনো রং বা ছবি কিংবা ভিডিও। এমনকি কোন গ্রাফিক্স-ও ছিল না ! প্রথম সেই ওয়েব পেজে মূলত সবই ছিল টেক্সট।

১৯৮৯ সাল থেকে শুরু করে অন্তর্জাল দুনিয়ায় আজ অকল্পনীয় বিপ্লব সাধিত হয়েছে। মিলিসেকেন্ডে যোগাযোগ করা যায় দুনিয়ার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত কিংবা নিমিষেই পাওয়া যায় সব খবর। ৩০ বছর আগে বিশ্বের প্রথম ওয়েব পেজ যখন চালু হয়েছিলো, সেই ওয়েব পেজটায় আজকের অন্তর্জাল দুনিয়ার ওয়েব পেজের মত নান্দনিক ছিল না। ১৯৮৯ সালে টিম বার্নার্স-লি বিজ্ঞানীদের জন্য টুল হিসেবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব(বিশ্বব্যাপী অন্তর্জাল) নিয়ে আসেন। বিশ্বব্যাপী অন্তর্জাল-এর জন্ম হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ১২ই মার্চ ইউরোপিয়ান ওরগানাইজেশান ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে। যার প্রধান কার্যালয় ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে।

অসংখ্য বিজ্ঞানীদের কমিউনিটি ছিল সিইআরএন। একশোর বেশী দেশের ১০ হাজার বিজ্ঞানীদের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্ঠা ছিল। ১ম ওয়েব পেজের স্রষ্টা ছিলেন টিম বার্নারর্স-লি। তিনি মূলত ছিলেন একজন ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার ও ফিজিসিস্ট। সে সময় সহজে ও নিরাপদে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য ইনফরমেশান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর জন্য টিম বার্নারর্স প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাবটিকে বার্নার্স লি’র উর্ধতন কর্মকর্তা ‘অস্পষ্ট, তবে ইন্টারেস্টিং’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বর্ধিত ও সমৃদ্ধ হতে-হতে সেই ওয়েবই আজ বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের বিপ্লব ঘটিয়েছে।

৩০ বছর আগে টিম বার্নারর্স লি নিজের কম্পিউটারে তার নিজের আবিষ্কার নেক্সট কম্পিউটার বিষয়ে কাজ করছিলেন। নিজের সেই কাজকে হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল (এইচটিটিপি) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি। অতি সামান্য এক আইডিয়া থেকে তিনি শুরু করেছিলেন— ইনফরমেশান মেনেজমেন্ট এই প্রস্তবনা।   ১৯৮৯ সালের এক বছর পর, ১৯৯০ এর ডিসেম্বরের ২০ তারিখে সিইআরএন এটিকে নিজেদের অভ্যন্তরীন কাজে ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে অগাস্ট মাসে সেটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য। ১৯৯৩ সালের ৩০ এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সফটওয়্যারকে সিইআরএন পাবলিক ডোমেইনে রেখে দেয় এবং সেটিকে সহজে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য একটি ওপেন লাইসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করার ব্যাবস্থা রাখা হয়। সেই সময়ে উইন্ডোজ বা গুগল ক্রম ছিল না। এমনকি ব্যক্তিগত কম্পিউটারো খুঁজে পাওয়া বিরল ব্যাপারই ছিল। আর এই ইন্ডাস্ট্রি বা প্রযুক্তির বাণিজ্যিক পসারের দিকটা ছিল বেশ জটিল আর কম আকর্ষণীয়।

ইন্টারনেট তখন ছিল ইমেল চালাচালির বিষয়মাত্র। তখন ইন্টারনেট সার্ফ করার লাইনটা কানেক্ট হতো এনালগ টেলিফোন লাইন মারফত। ফলে লাইন পাওয়া ছিল বিরাট ধৈর্যের পরীক্ষা। “বর্তমান যুগে আমরা ব্যবহার করছি থ্রিজি ও ফোরজি। কিন্তু এরপরো সংযোগে আধা সেকেন্ড দেরী হলে আমরা অস্থির হয়ে ওঠি। প্রযুক্তির দুনিয়াটা ভীষণ দ্রুত গতিতে পরিবর্তন ঘটছে।  এতো দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে যে, আমরা ভুলেই গেছি অতীতে তা কত ধীর গতির ছিল। ১৯৮৯ সালে সেই প্রথম পেজটাতে কোনো অ্যাড্রেস বার ছিল না। কোনো ছবি বা কোনো প্রকারের  শব্দ-ও ছিল না। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে টিম বার্নারর্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম বা ডাব্লিউথ্রিসি সৃষ্ট করেন। এটিই ওয়ার্ল্ড ওয়াই্ড ওয়েব-এর আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তা অনেক বদলে গেছে: হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ বা এইচটিএমএল-এর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল বা এইচটিটিপি-এর এতো বদল ঘটেছে যে এর প্রথম সংস্করণের সাথে বর্তমানের সংস্করণের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া দুস্কর। সার্চ এঞ্জিন আর ওয়েব ব্রাউজারগুলোও ক্রমাগত পরিমার্জন ও আধুনিকায়নের ভেতর দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে।