বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চার আহ্বান শিক্ষা উপমন্ত্রীর

88
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চার আহ্বান শিক্ষা উপমন্ত্রীর

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চা বাড়াতে এবং বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণা আরও বেশি বোধগম্য করতে বিজ্ঞানের বই-পুস্তক ও সাময়িকীসমূহ বাংলা ভাষায় অনুবাদের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, উচ্চতর জ্ঞান বিজ্ঞানের শাখার গবেষণার বই-পুস্তকসমূহ ইংরেজি ভাষায়। ভাষার এ প্রতিবন্ধকতার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপকারিতা আত্মস্থ করতে পারছি না। আমাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বই এবং জার্নালগুলো যদি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়, তাহলে বিজ্ঞানের ধারণাগুলো সকলে সহজে বুঝতে পারবে। আমাদের গবেষকদের সংখ্যাও বাড়বে।
শনিবার দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টের (বিএসএম) ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিবুল হাসান চৌধুরী এসব কথা বলেন। ‘ট্রেন্ডস ইন মাইক্রোবায়োলজি ফর সাসটেইনবল অ্যাগ্রোইকোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এই সম্মেলন বিএসএম এবং যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞানের বই ও জার্নালগুলো অনুবাদ করা হলে বা বাংলা ভাষায় প্রকাশ করা হলে নতুন বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের ধারণাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারবে। আমরা দক্ষ বিজ্ঞানী, দক্ষ প্রকৌশলী, দক্ষ ডাক্তার আরও সৃষ্টি করতে পারবো। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যারা পড়াশোনা করছেন, এতে তারা আরও বেশি উপকৃত হবে। আপনারা একটু উদ্যোগী হয়ে বিশেষ সেল গঠন করে এটা করতে পারেন। দেশের সব বিজ্ঞান, গবেষকদের এ বিষয়ে বিশেষ দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে। আপনারা প্রয়াস নিন, দায়িত্ব নিন। আমরা সহযোগিতা করবো।
গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উদ্যোগের কথা জানিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে পেয়েছি, যিনি আগামী ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছেন। গবেষণা খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য আমরা সচেষ্ট হওয়ার চেষ্টা করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আমি কথা বলবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৩ আসনের সংসদ কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শুধুমাত্র একাডেমিক নয়, গবেষণার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। এ বিশ^বিদ্যালয়ের অনেক খেলোয়াড় দেশ-বিদেশে অনেক খেলায় চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। এ জন্য বিশ^দ্যিালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এ বিশ^বিদ্যালয় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক পরিম-লে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেক সময় বলা হয়, শিল্পের জন্য দক্ষ গ্রাজুয়েট পাওয়া যায় না। এ কথা বিবেচনায় রেখে দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরির জন্য আমাদের পাঠ্যক্রম তৈরিতে শিল্প উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করছি। সরকারও যদি তাদেরকে এ দিকে ধাবিত করার জন্য প্রয়াস নেয়, তাহলে আমরা সবাই উপকৃত হবো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের ফেলো মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. এ এস এম মতিউর রহমান ও ‘শান্তিস্বরূপ ভাতনগর’ পুরস্কারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতের হায়দারাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, যশোরের বিশিষ্টজনেরাসহ উপস্থিত ছিলেন এবং দেশি-বিদেশি প্রায় আড়াই শতাধিক আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী এবং পিএইচডি-এমফিল ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে অণুজীব বিজ্ঞানের গবেষণা ছাড়াও সরকাররে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জলবায়ু পরিবর্তন, জৈব তথ্য-প্রযুক্তির উপর গবেষণার বিষয়ে ১৬১টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

শেয়ার