‘বর্ণবাদ অপসারণে রঙের উৎসব’ -সুজন দেবনাথ

0
বর্ণবাদ অপসারণে রঙের উৎসব

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার পর প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডের্নকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোন করে বললেন, What the US could do? মানে – আমেরিকা কি দিতে পারে? একটু থেমে মিজ জেসিন্দা বললেন, Sympathy and love for all Muslim communities.মানে – আমেরিকা যেটি দিতে পারে সেটি হলো – সকল মুসলিমের জন্য সমবেদনা ও ভালোবাসা।
আমেরিকা সেটি দিবে কিনা, সেটা তারাই বলবে। কিন্তু আমরা চাইলে সব মানুষের জন্য ভালোবাসা দিতেই পারি।
পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রধানমন্ত্রী এই জেসিন্দা। প্রধানমন্ত্রী হয়ে মা হয়েছেন, ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে অফিস করছেন। মসজিদে হামলার পরে ওনার আচরণ ও ব্যক্তিত্বে পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ আশার আলো দেখতে পেয়েছে। একদল মানুষ ঘৃণা ছড়ায়, ঘৃণা উস্কে দেয়। আর একদম মানুষ ঘৃণা দূর করতে কাজ করে যায়।

আজ হোলি – রঙের উৎসব। না, ভুল বললাম – রঙের উৎসব নয়। হলি হচ্ছে – একজনের রঙে আরেকজনকে রাঙানোর উৎসব। সবার রঙে মিলে এক রঙ হবার উৎসব।
আমি জীবনে কোনদিনই হোলি উৎসব খুব ঘটা করে করিনি। তেমন ভালো লাগতো না। মনে হতো – হুদাই রঙ ছিটান – এ কেমন আচরণ! কিন্তু এবার নিউজিল্যান্ডের হামলার পরে এই উৎসবটিকে মনে হচ্ছে একটা চমৎকার উৎসব। নিউজিল্যান্ডের হামলাটি বর্ণবাদী হামলা। সাদারা কালোদের মারছে, মুসলিমদেরকে আর বিদেশিদেরকে মারছে। হোলি উৎসব রঙের উৎসব, সাদা-কালো ভুলে যাবার উৎসব। সবার রঙে এক রঙ হবার আয়োজন। মনের ভেতরটা রাঙানোর উৎসব। মন রঙিন হলে – থাকবে না সাদা, কালো বিভেদ। দূর হবে বর্ণবাদ। সবার ভেতরের ভালো রঙটাই শুধু চোখে পড়বে। হোলির রঙ মনে লাগলে সবাই মিস জেসিন্দার মতোই বলবে – প্রতিটি মানুষের মনে অন্য মানুষের জন্য ভালোবাসা ও সমবেদনা আসুক।

বর্ণবাদ অপসারণে রঙের উৎসব
আজ সবার রঙ মিলে এক রঙ হোক। এই কথাটিই ঠিক একশ বছর আগে ১৯১৯ সালে রবি ঠাকুর বলে উঠেছিলেন –
‘আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে
ওগো আমার প্রিয় – তোমার রঙিন উত্তরীয়
আজ পরো পরো পরো।’
তো, আজ সবার মনে ভালোবাসার একটা রঙিন উত্তরীয় জড়িয়ে যাক। তাতে সাদা, কালো, বাদামী, লাল – সব বর্ণের, সব ধর্মের মানুষের জন্য একটা ভালোবাসার ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ুক। দূর হোক বর্ণবাদ।

লেখক: ফাস্ট সেক্রেটারী, বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স, গ্রিস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here