প্রথম প্রোগ্রাম

46
প্রোগ্রামিং এর প্রাথমিক ধারণা

আমরা এখন একটি প্রোগ্রাম লিখে ফেলব, যেটি আউটপুট স্ক্রিনে Hello World দেখাবে বা প্রিন্ট করবে। পৃথিবীর অধিকাংশ প্রোগ্রামারই জীবনের প্রথম প্রোগ্রাম হিসেবে এটি লেখে। আমরা এই প্রোগ্রামটি এবং পরবর্তীতে অন্যান্য প্রোগ্রামের কোড চালানোর জন্য এই ওয়েবসাইটের কোডল্যাব এ যাবো এবং এর অত্যাধুনিক কোড এডিটরটি ব্যবহার করবো।

চলুন তাহলে আমরা কোডল্যাবে যাই এবং নিচের কোডটি হুবহু টাইপ করে লিখে ফেলি। যদি কোডল্যাবে আগে থেকে কিছু লেখা থাকে, তাহলে সেটা মুছে ফেলে নিচের কোডটি টাইপ করুন। দয়া করে কোডটি কপি পেস্ট করবেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে কোড নিজের হাতে টাইপ করলেই আপনারা সবচেয়ে দ্রুত শিখতে পারবেন।

#include <stdio.h>

int main()
{
printf(“Hello World”);
return 0;
}

এবার লিখা হয়ে গেলে “রান করুন” নামের বাটনটিতে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখতে পাবেন একটি নতুন প্যানেলে নিচের ছবির মত আপনার “Hello World” মেসেজটি দেখা যাচ্ছে। এই প্যানেলটিকে আমরা কনসোল উইন্ডো (Console Window) নামে ডাকব। যদি কোন কারণে আউটপুট (Output) এ এটি দেখা না যায়, তার কারণ হচ্ছে আপনি টাইপ করতে গিয়ে হয়ত কিছু ভুল লিখেছেন। মনে রাখবেন উপরের প্রোগ্রামটি হুবহু টাইপ করতে হবে। একটি অক্ষরও এদিক ওদিক হতে পারবে না।

আউটপুটআউটপুট দেখানোর পর, যেকোনো কি(Key) প্রেস করলেই কনসোল উইন্ডোটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই উইন্ডোতে দেখানো “The prgoram has ended, press any key to exit…” এই লাইনটি প্রোগ্রামের অংশ নয়। সফল ভাবে প্রোগ্রাম শেষ হলে, এই লাইনটি দেখাবে। কাজেই এই লাইনটির মাধ্যমে আমরা প্রোগ্রামের সমাপ্তি বুঝতে পারি।

প্রোগ্রামিং এর ভাষায় আউটপুটে কোন কিছু দেখানোকে প্রিন্ট (Print) করা বলে। এখানে প্রিন্ট করা বলতে কাগজে প্রিন্ট করা বোঝাচ্ছে না যা কিনা প্রিন্টার মেশিন করে থাকে। প্রোগ্রামিং এর ভাষায় প্রিন্ট করা মানে আউটপুটে দেখানো। কাজেই ভবিষ্যতে আমরা যতবার প্রিন্ট লিখব, তা আসলে আউটপুট দেখানোকে বোঝাবে।

আপনি যদি প্রোগ্রামটি ঠিকঠাকভাবে রান করাতে পারেন এবং “Hello World” লেখাটা দেখে থাকেন তাহলে আপনাকে অভিনন্দন। দেখুন তো, উপরের প্রোগ্রামের “Hello World” কথাটির জায়গায় অন্য কোন কিছু লিখে প্রোগ্রামটি চালালে কি ঘটে!

 প্রোগ্রামটির বিস্তারিত

#include <stdio.h>

int main()
{
printf(“Hello World”);
return 0;
}

চলুন এখন একে একে ব্যাখ্যা করা যাক লাইনগুলো।
প্রথম লাইন ছিল: #include <stdio.h>, এখানে stdio.h একটি হেডার ফাইল। এখানে এই হেডার ফাইলটিকে আমাদের প্রোগ্রামে সংযুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে। এটি কেন লিখেছি, তা পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা জানতে পারব, আপাতত না জানলেও চলবে।

দ্বিতীয় লাইন ফাঁকা। দেখতে ভাল লাগে তাই। ফাঁকা না রাখলে কাজ করতো, কিন্তু প্রোগ্রামটি পড়তে সুবিধা হয় ফাঁকা রাখলে তাই রাখা।

তৃতীয় লাইন: int main()। এটিকে বলে মেইন ফাংশন। সি প্রোগ্রামগুলো মেইন ফাংশন থেকে কাজ করা শুরু করে, তাই সব প্রোগ্রামে একটি (এবং কেবল একটি) মেইন ফাংশন থাকতে হয়। মেইন ফাংশনের শুরুতে দ্বিতীয় বন্ধনী ‘{‘ দিয়ে শুরু করতে হয় আর শেষও করতে হয় একটি দ্বিতীয় বন্ধনী ‘}’ দিয়ে। শেষ করার আগে আমরা return 0; লিখেছি, সেটি কেন এখন ব্যাখ্যা না করলেই ভালো হয়, ফাংশন নিয়ে যখন আলাপ করব তখন বলবো। আপাতত আমরা যেকোনো প্রোগ্রামে নিচের অংশটুকু লিখে ফেলবো, এবং { ব্র্যাকেট শুরু করার পর এবং return 0; লেখার আগে যে অংশটুকু আছে, সেখানেই আমাদের প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামটুকু লিখব।

int main()
{
//এখানে কোড থাকবে।
return 0;
}

প্রোগ্রামের পরের লাইনটি খেয়াল করুন: printf(“Hello World”); এটি একটি স্টেটমেন্ট। এখানে printf() হচ্ছে একটি ফাংশন যার কাজ হচ্ছে স্ক্রিনে কিছু প্রিন্ট করা। ডাবল কোটেশন (” “) চিহ্নের ভেতরে যা লিখবেন তা-ই সে স্ক্রিনে প্রিন্ট করবে।

printf ফাংশনটি স্ক্রিনে প্রিন্ট করে কীভাবে সেটি আসলে বলা আছে stdio.h ফাইলে। এই ফাইলগুলোকে বলে হেডার (header) ফাইল (.h হচ্ছে হেডার ফাইলের এক্সটেনশন)। stdio.h ফাইলে স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট আর আউটপুট-সংক্রান্ত যাবতীয় ফাংশন লেখা আছে। এই ফাংশনগুলোকে ব্যবহার করার জন্য আমাদেরকে এই হেডার ফাইলকে সংযুক্ত করতে হয়। যেহেতু printf() ফাংশন ব্যবহার করেছি, তাই প্রোগ্রামের শুরুতে #include <stdio.h> লিখতে হয়েছে। আপাতত আমরা কেবল ফাংশনগুলো ব্যবহার করব, ফাংশনগুলো কীভাবে কাজ করে সেটি এখন আমাদের জানার দরকার নেই। এই রকম আরও অনেক প্রয়োজনীয় হেডার ফাইল আছে, যার কিছু আমরা পরবর্তী সময়ে কাজের প্রয়োজনে দেখব।

এখন একটি ব্যাপার খেয়াল করুন। printf(“Hello World”);-এর শেষে একটি সেমিকোলন রয়েছে। সি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রতিটি স্টেটমেন্টের পরেই একটি সেমিকোলন থাকে। একটি স্টেটমেন্টের কাজ শেষ হলে পরের স্টেটমেন্টের কাজ শুরু হয়। return 0; এই লাইনটিও একটি স্টেটমেন্ট, তাই এটিও সেমিকোলন দিয়ে শেষ করতে হয়েছে। শুরুর দিকে অনেকেই সেমিকোলন দিতে ভুলে যায়, তখন কম্পাইলেশন এরর (Compilation Error) হয়। আপনি একটি সেমিকোলন মুছে দিয়ে রান করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

বিভিন্ন কারনে কম্পাইলেশন এরর হতে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত এখনই না জানলেও চলবে। তবে জানতে চাইলে কম্পাইলেশন এরর লিংকে ক্লিক করতে পারেন।