প্রকৃতির নিয়ম স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করাই বিজ্ঞান চর্চা

59
প্রকৃতির নিয়ম স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করাই বিজ্ঞান চর্চা

পৃথিবীর মানুষ আজকাল যে ধরনের বিজ্ঞান চর্চায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে সেটি কিন্তু তুলনামূলকভাবে বেশ নতূন। আগে খুব গুরুত্বপুর্ণ একজন মানুষ কিছু একটা বলতেন অন্য সবাই তখন সেটাকেই মেনে নিতো। অ্যারিস্টটল তাঁর সময়ে খুব গুরুত্বপুর্ণ একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন, তিনি বলেছিলেন ভারী জিনিস হালকা জিনিস থেকে তারাতারি পড়ে। কেউ কোন রকম আপত্তি না করে সেটা মেনে নিয়েছিলেন। দুই হাজার বছর পর একজন বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি ব্যাপারটা একটু পরিক্ষা করতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন বিষয়টি সত্যি নয়, ভারী ও হালকা জিনিস একসাথে নিচে এসে পড়ে। বিজ্ঞানের একটা ধারণাকে যে গবেষণাগারে পরিক্ষা করে তার সত্য মিথ্যা যাচাই করে দেখা যায় সেই চিন্তাটি মোটামুটিভাবে বিজ্ঞানের জগৎটাকেই পাল্টে দিয়েছিল। এই নতুন পদ্ধতিতে বিজ্ঞানচর্চায় কৃতিত্বটা দেওয়া হয় আইজাক নিউটনকে। বর্ণহীন আলো যে আসলে বিভিন্ন রঙের আলোর সংমিশ্রণ সেটা নিউটন প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। সেই সময়ের নিয়ম অনুযায়ী এই তত্ত্বটা প্রকাশ করার পর সকল বিজ্ঞানীদের সেটা নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিলো, কারো কারো এর পক্ষে কারো কারো এর বিপক্ষে যুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। নিউটন এইসব আলোচনার ধারে কাছে গেলেন না। একটা প্রিজমের ভিতর দিয়ে বর্ণহীন সূর্যের আলো পাঠিয়ে সেটাকে তার ভেতরের রঙগুলিতে ভাগ করে দেখালেন। শুধু তাই না আবার সেই ভাগ হয়ে যাওয়া রঙগুলোকে দ্বিতীয় একটা প্রিজমের ভেতর দিয়ে পাঠিয়ে সেটাকে আবার বর্ণহীন আলোতে পাল্টে দিলেন। পরিক্ষাটি এত অকট্য যে তার তত্ত্বটি নিয়ে কারো মনে এতটুকু সন্দেহ থাকার কথা নয়। সেই সময়ের বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই ধরনের বিজ্ঞানচর্চায় অভ্যস্ত ছিলেন না। নিউটন যে তার তত্ত্ব নিয়ে তর্কবিতর্ক করার কোনো সুযোগেই দিলেন না সে জন্য তার ওপরে খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। তাদের মনে হয়েছিল নিউটন তাদের কোনভাবে ঠকিয়ে দিয়েছেন। সেই সময়কার বিজ্ঞানীরা ব্যাপারটাকে যত অপচ্ছন্দ করে থাকুন না কেন বর্তমান বিজ্ঞান চর্চা কিন্তু এভাবেই হয়। বিজ্ঞানীরা আমাদের চারপাশের জগৎটাকে বোঝার চেস্টা করেন, প্রকৃতি যে নিয়মে এই জগৎটিকে পরিচালনা করে সেই নিয়িমগুলোকে যতদুর সম্ভব স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার চেস্টা করেন।

শেয়ার