পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি : শোকাচ্ছন্ন বাংলাদেশ

61
পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড

বুধবার রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় কয়েকটি ভবনে আগুন লাগার পর ১৫ ঘণ্টার চেষ্টায় তা পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে মোট ৭০টি বডি ব্যাগ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানোর কথা জানানো হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ ৬৭টি লাশ পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে জীবন্ত দগ্ধ ৪৬ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ শনাক্তে নিহতদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের কর্মীরা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এলাকায় নমুনা সংগ্রহ শুরু হয় বলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার জানান। সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সহকারী অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন জানান, শনাক্ত করা যায়নি এরকম ১৫টি লাশের দাবি নিয়ে ২০ জন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।
“তাদের ডিএনএ নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছি। এরপর কেউ এলে তারা মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে গিয়ে নমুনা দিতে পারবেন।” স্বজন পরিচয়ে যারা আসছেন, তাদের রক্তের পাশাপাশি গালের অভ্যন্তরের টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান নুসরাত। আর যে ২১ জন লাশ শনাক্ত করা যায়নি, তাদের পেশি, দাঁত ও হাড়ের নমুনাও সংগ্রহ করছেন সিআইডির কর্মীরা।

বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা জানান, “যাদের চেনার উপায় নেই, তাদের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি এখন ডিএনএ স্যাম্পলের উপরই নির্ভর করছে। এ পরীক্ষার জন্য তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।”
নিখোঁজদের স্বজনরা যতদিন পর্যন্ত আসবেন, ততদিন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহের এই কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।  চকবাজার থানার ওসি শামীমুর রশিদ তালুকদার জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে, সবগুলোই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকায় কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে নয় জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন, তাদের অবস্থাও ‘শঙ্কামুক্ত নয়’ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

চকবাজার চুড়িহাট্টায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের বাড়ি নোয়াখালী বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় এই ১৩ জনের লাশ দাফন করা হয়।

নিহত ৬৭ জনের মধ্যে ৪৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
এখনও যেসব লাশ শনাক্ত করা যায়নি তাদের মধ্যেও নোয়াখালীর আরও কেউ আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

যানবাহনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়ায় এর বিকল্প কী হতে পারে, তা ভেবে দেখার কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান কাদের। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই ঘটনা নিয়ে কথা বলেন।
বুধবার রাতে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের পাঁচটি ভবনে আগুন ধরে যায়। সেসব ভবন এবং আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম ওই আগুনকে ভয়াবহ মাত্রা দেয় বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে জীবন্ত দগ্ধ হন অন্তত ৬৭ জন।

চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের একদিন পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা, আর তাতে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল বলছে, ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের মজুদের কারণেই আগুন ছড়িয়ে দ্রুত, হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী।
আর সিটি করপোরেশনের তদন্ত দল জানিয়েছে, অনুমতি না থাকলেও ভবনগুলোতে রাসায়নিক ও বিভিন্ন দাহ্য সামগ্রীর গুদাম গড়ে তোলা হয়েছিল। ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি হয়নি, আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার রাতে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চুড়িহাট্টা মোড়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরাপর সেই আগুন প্রথমে রাস্তায় থাকা যানবাহন এবং পরে ঘটনাস্থলের পাঁচটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস, অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ যায় অন্তত ৬৭ জনের।  শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন, চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড সিলিন্ডারের বিস্ফোরণেই হয়েছে, এর সঙ্গে রাসায়নিক গুদামের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে শুক্রবার সকালে তদন্ত শুরু করার পর মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দলের সদসর‌্যা।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের ক্যানেস্তারা ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এছাড়া আরও অন্যান্য কেমিকেল ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে।”
তিনি বলেন, “পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হত এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমার মত কাজ করেছে।”
শিল্প মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জুলফিকার বলেন, “অবশ্যই কেমিকেল ছিল। যা যা ছিল, সেগুলো সবই রাসায়নিক। তিনি এমন বক্তব্য কোন প্রেক্ষিতে দিয়েছেন তা আমার জানা নেই। তবে কেমিকেলের জন্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে বেশি।”
ফায়ার সার্ভসের উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) দিলিপ কুমার ঘোষকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ‘অবহেলাজনিত প্রাণনাশ’ অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। আগুনে জীবন্ত দগ্ধ আরাফাত ইসলাম সিয়ামের (১৯) আত্মীয় হাবীবুর রহমান রুবেল শুক্রবার চকবাজার থানায় এ মামলা দায়ের করেন বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান জানান।

চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক হাজি আবদুল ওয়াহেদের দুই ছেলে শহীদ ও হাসানসহ অজ্ঞাত পরিচয় ১০-১২ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে চুড়িহাট্টা মোড়ের কাছে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবনে আগুন ধরে যায়। ওই ভবন এবং আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম আগুনকে ভয়াবহ মাত্রা দেয় বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ততক্ষণে চুড়িহাট্টা মোড় পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। ঘটনাস্থল থেকে আরাফাতসহ ৬৭ জনের পোড়া লাশ মর্গে পাঠান উদ্ধারকর্মীরা।
উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, মামলায় দ-বিধির ৩০৪ (ক),৪৩৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত প্রাণনাশ, নাশকতা, মালামালের ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে চকবাজার থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে এ ঘটনায়।

আগুনের সূত্রপাত যেভাবে
পুরান ঢাকার চকবাজারে নন্দ কুমার দত্ত রোড ও শেখ আজগর লেইন মিলিত হয়েছে চুড়িহাট্টা মোড়ে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পর ঢাকার প্রাচীন এই এলকায় এখন মৃত্যুপুরীর নীরবতা। বুধবার রাতেও সেখানে আর দশটা দিনের মত স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য ছিল। রাত পোহালেই একুশে ফেব্রুয়ারি, তারপর শুক্র আর শনিবার মিলিয়ে তিন দিনের ছুটি। সে কারণে ঢাকার পাইকারি পণ্যের বাজারের মধ্যে এ এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি।
রাত ১০টার পর ঝাঁপ ফেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন স্থানীয় দোকানিরা। শহরের বিভিন্ন এলাকা স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘরে ফিরছিলেন। চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের সামনে চার রাস্তার মোড়ে তখন বেশ ভিড়।
রিকশা, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার আর পিক-আপ ভ্যান মিলিয়ে শতাধিক যানবাহনের ভিড়ে যানজটের মত একটা অবস্থা ছিল সেখানে। এর মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ, তারপর যেন নরক নেমে আসে চুড়িহাট্টা মোড়ে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বিস্ফোরণের পর প্রথমে রাস্তায় থাকা যানবাহনে এবং পরে আশপাশের পাঁচটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
অগ্নিকা- শুরুর ১৫ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস। ততক্ষণে বডিব্যাগে ভরে ৬৭টি লাশ পৌঁছায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পোড়া লাশগুলোর মধ্যে ২৭টি এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঠিক কীভাবে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিভিন্ন রকম তথ্য এসেছে। আর ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শেষ করার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বলেছেন, ওই মোড়ে ভিড়ের মধ্যে থাকা একটি পিকআপের গ্যাস সিলি-ার বিস্ফোরিত হলে অগ্নিকা-ের শুরু হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনও সাংবাদিকদের সামনে একই কথা বলেছেন।
আর ফায়ার সার্ভিস বলছে, পাইকারি পণ্যের বাজারের মধ্যে ওই ভবনগুলোর অধিকাংশ দোকানে প্লাস্টিক ও পারফিউমের গুদাম ছিল। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে, ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বেশি।
বুধবার রাতে চুড়িহাট্টা মোড়ে ঠিক কী ঘটেছিল, স্থানীয় বাসিন্দা আর প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তা জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অগ্নিকাণ্ডের সময় চুড়িহাট্টা মোড় থেকে পূর্বদিকে ৩০-৩৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন নন্দ কুমার দত্ত রোডের বাসিন্দা মো. আশিক উদ্দিন। হঠাৎ তিনি বিকট শব্দ পান, তারপর চার তলা হাজী ওয়াহেদ মঞ্জিল আর তার ডান পাশে রাজমহল হোটেলের সামনের রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যানকে উপর থেকে নিচে পড়তে দেখেন।
“আমার মনে হয়, সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় ওই গাড়ি ছিটকে উপরে উঠে গিয়েছিল। আমি দেখেছি নামার সময়। এরপর মুহূর্তে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।”
আশিক জানান, বিস্ফোরিত পিকআপ ভ্যানটির পাশেই রাজমহল হোটেলের চুলা ও কয়েকটা গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। ওই হোটেলের সামনের অংশেও আগুন লেগে যায়।
কয়েক মিনিটের মধ্যে পাশের ওয়াহেদ মঞ্জিল এবং রাস্তার মোড়ে যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন জ্বলতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন আশিক। তবে চুড়িহাট্টা মোড়ে আরও অনেকের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ওয়াসি উদ্দিন মাহিদও মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী আতাউর রহমান বলেন, “ওই পিকআপ ভ্যানটি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছিল। লোকজন বলছে, সামনে একটি অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগলে একটি সিলিন্ডার রাস্তায় পড়ে যায়। পাশের রাজমহল হোটেলের বাইরেও সিলিন্ডার রাখা ছিল। ওখানেই বিস্ফোরণ হয়, তারপর আগুন লেগে যায়। পরে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্লাস্টিক আর কেমিকেলের গোডাউনে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, চড়িহাট্টা মোড়ে দুটি পিকআপ ভ্যান পুড়ে কংকাল হয়ে পড়ে আছে। সেখানে পাশাপাশি দুটি প্রাইভেটকারের পোড়া কাঠামো, ৩৪-৩৫টি রিকশা এবং ২০-৩০টি মোটরসাইকেলের পোড়া ধাতব অংশ পাড়ে আছে।
মোড়ের দক্ষিণপাশে থাকা চারতলা হাজী ওয়াহেদ মঞ্জিল পুরোটাই পুড়ে গেছে আগুনে। পাশের ছয়তলা ভবনের নিচতলায় খাবার হোটেল রাজমহল। এ ভবনটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়কের উল্টো দিকে আরেকটি চারতলা ভবন এবং ওয়াহেদ মঞ্জিলের পশ্চিম পাশের দোতলা আরেকটি ভবন আগুনে পুড়েছে। চড়িহাট্টা শাহী মসজিদ গেইটের সামনের অংশের টাইলস খসে পড়েছে। মোড়ের উত্তর-পশ্চিম অংশের ভবনের নিচে দুটি দোকানও পুড়ে গেছে।
রাস্তার মোড়ে পড়ে আছে অসংখ্য টবণাস্টিকের দানা, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য পারফিউমের পুড়ে যাওয়া বোতল ও অন্যান্য রাসায়নিকের পোড়া কৌটা।
স্থানীয়রা জানান, ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলায় টেলিকম, রিফ্রিজারেশ ওয়ার্ক, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রীর ১২-১৪টি দোকান ছিল। দোতলায় ছিল দেশি-বিদেশি পারফিউম ও প্লাস্টিকের কাঁচামালের কয়েকটি গোডাউন। ওপরের তিন ও চারতলায় ছিল বাসা বাড়ি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যেসব লাশ উদ্ধার করেছেন, তার অনেকগুলো পাওয়া গেছে ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলা ও রাস্তায়। নিহতদের মধ্যে অনেকেই পথচারী ও বিভিন্ন দোকানে আসা ক্রেতা।

শেয়ার