জীবন প্রদীপ ।। ওয়াসিম হোসেন

জীবন প্রদীপ

জীবন একটি সৃজনশীল পথ। প্রদীপের ন্যায়। তার পাদদেশে অন্ধকার থাকলেও তার ভেতরের শক্তি যত মজবুত সে প্রদীপের আলো তত প্রসারিত।

মহাবিশ্বের অনন্ত শুন্যর মাঝে রয়েছে অসংখ্য ছায়াপথ (galaxy)। প্রতিটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সীর মাঝে রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র। তেমনি আকাশগঙ্গা ছায়াপথের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সূর্য। সৌরজগতের একমাত্র সবুজ ও প্রাণের স্পন্দনের গ্রহ পৃথিবী। আর আমাদের এই পৃথিবীতে বাস করে প্রাণিজগতের সব থেকে বুদ্ধিমান ও সব থেকে বোকা’মানুষ’।
পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করতেছে টাকাওয়ালা অবিবেচক কিছু মানুষ। হয়ত কেউ কেউ হুজুগে সুর মেলাবেন ঠিক। কেউ হয়ত টাকাওয়ালা মানুষগুলোর পক্ষে উগ্র চেতনা মেশাবে। আবার কেউ হয়তো টাকাওয়ালা মানুষগুলোকে প্রভু হিসেবে দেখবে।

পৃথিবীর অনেক বস্তু ও প্রাণী অক্সিডেশান করে শক্তি উৎপন্ন করে। মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে তার ভেতরের ট্রিলিয়ন কোষকে সতেজ রাখে বিনিময়ে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী করে। মানুষের পরম বন্ধু গাছ সেগুলো রিসিভ করে আমাদের জন্য অক্সিজেন উৎপন্ন করে।

পৃথিবীর কিছু বোকা মানুষ ক্ষতিকর কোমল পানীয় ঠান্ডা রাখার জন্য কিংবা একটু আরাম আয়সে থাকার জন্য এসি ব্যবহার করে। ফ্রিজ ও এসি থেকে প্রতিনিয়ত উৎপন্ন হয় সিএফসি(ক্লোরোফ্লোরো-কার্বন)। এই গ্যাস যখন মুক্ত হয়ে বাতাসে মিশে যায় তখন ভয়ানক একটি ঘটনা ঘটে। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি থেকে আমাদের যে স্তরটি রক্ষা করে তার নাম ওজোন স্তর। সেই ওজোন স্তরের ক্ষতি করে ক্লোরোফ্লোরোকার্বনের ভেতরে থাকা কার্বন। ওজোন স্তরের ক্ষতি করে কার্বন আমাদের ভয়ানক বিপদের মুখোমুখি করছে। যার খলনায়ক আমাদের পৃথিবীর কিছু বোকা মানুষ।

আমাদের এই সবুজ গ্রহের রয়েছে অফুরন্ত রহস্য, যা এখনো বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারে নাই। প্রকৃতির রয়েছে অসংখ্য নিয়ম। সেই নিয়মে ঘটে ঝড় আর অনিয়মে ঘুর্নিঝড়। প্রকৃতি পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ঘুর্নিঝড়ের অবতরন ঘটায়। তেমনি একটি ঝড় ছিল ফণী। যা এসেছিলো ২০১৯ সালের ৪ মে । আবহাওয়াবিদরা বলেছিলো অনেক দুর্ভাবনার কথা। অনেকে বিপদের কথা স্মরণ করে, করেছিল প্রার্থনা। বিপদে কেউ প্রার্থনা করলে; সেটি যে বাস্তবায়ন হয় তার প্রমাণ ঘুর্নিঝড় ফণী। বিপদের সময় মানুষের মনে সন্দেহ, সংশয় থাকে না। কেউ আল্লাহর কাছে, কেউবা ঈশ্বরের কাছে আবার কেউবা প্রকৃতির কাছে করেছিল প্রার্থনা ।

আমাদের শরীরের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ কে চালায়? তা হয়ত অনেকের বোধগম্য নয়। অনেকেই জানে আমাদের শরীরের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। কিন্তু এই মস্তিষ্কের স্রষ্টা কে?

মনের চোখ দিয়ে মানবশরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রতাঙ্গ কিংবা মহাবিশ্বের দিকে তাকালে অফুরন্ত প্রশ্ন থেকে যায় । সক্রেটিস বলেছিল, তখনই সত্যিকারের জ্ঞানী হওয়ার পথে তুমি এগোতে পার যখন আপনি জানবেন যে, আপনি কিছুই জানেন না। দেবতা এপোলোর মন্দির ডেলফিতে দৈববাণী হয়েছিল যে সক্রেটিসই হচ্ছে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী পুরুষ। তাই সক্রেটিস জুরিদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমি প্রমাণ করতে চাইলাম দৈববাণী ভুল। তাই আমি প্রথমে গেলাম রাষ্ট্রপরিচালকদের কাছে এবং দেখলাম যাদেরকে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী বলে মনে করা হয় তারাই সবচেয়ে বেশি মূর্খ। তখন আমি বুঝলাম আমি তাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী, কারন আমি অন্তত এইটুকু জানি যে, আমি কিছুই জানি না। তারপর আমি কবিদের কাছে গেলাম এবং দেখলাম তারা জ্ঞানের সাহায্যে নয় বরং দৈবজ্ঞানীদের মত অনুপ্রাণিত হয়ে কাব্য রচনা করেন। তারা অনেক চমৎকার কথা বলেন কিন্তু যা বলেন তার কিছুই বুঝেন না। তথাপি কবিরা মনে করেন তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। তারপর আমি গেলাম কারিগরদের কাছে, দেখলাম তারা অনেক কিছুই জানেন যা আমি জানি না। যেমন জাহাজ কিংবা জুতো তৈরি করা। কিন্তু কবিদের মত তারা বিশ্বাস করেন তাদের জানা বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যেমন জুতো তৈরি করা। এ বিশ্বাস তাদের জ্ঞানী হতে বাঁধা দেয়। এসবকিছু দেখেশুনে আমি সিদ্ধান্তে এলাম যে, আসলে কেউই জ্ঞানী নয়- রাষ্ট্রপরিচালকরা নয়, কবিরা নয়, কারিগররা নয় এমনকি আমিও নই, যার সম্পর্কে ডেলফিতে দৈববাণী শোনা গিয়েছিল। কিন্তু আমি অন্তত এইটুকু জানি যে, আমি কিছুই জানি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here