জীবনের দর্শন

জীবনের দর্শন

বাইরের চেঁচামেচিতে জীবনের আরামের ঘুম ভেঙে গেলো। কোথা থেকে একটা চাঁপাকান্না ভেসে আসছে। মধ্য বয়সী নারীর হবে। জীবন অনুসন্ধানী মনে এগোলো। কী ঘটছে জানতে হবে। ত্রিশের কোঠায় পা পড়েনি। কিন্তু কৌতহলপ্রিয়তা তাকে অনেক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তিনি ভাবেন তার জীবনটা ইউনিক। ঈশরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা ২১ বছরের সুকান্ত তাদের কারো সাথে কারো জীবনযাত্রা কিংবা জীবনবোধের মিল নেই । ঠিক তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবন ভিন্ন। এটা জীবনের গবেষণা।

ঘুম থেকে উঠে সোজা ঘটনাস্থল বরাবর জীবন পায়চারী করছেন। তার ধারণাটাই ঠিক । একজন মধ্য বয়সী নারীকে তার স্বামী বেদম প্রহার করেছেন। পাড়ার মহিলাদের কেউ একজন তেল নিয়ে এসে ক্ষত স্থানে লাগাচ্ছেন । কেউ কেউ বাসার ছাদ থেকে বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছে। সকলেই দেখছেন কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। জীবন ভাবুক মনে চায়ের দোকানে বসে চিনি মিশ্রিত গরম পানি পান শেষে জ্বলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে বাসায় ফিরলেন।

তার আর কিছুই ভাল লাগছে না । তার সামনে ভেসে আসছে অসংখ্য নারীর করুণ চাহুনি। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই অসংখ্য অমানবিক নির্যাতন দেখেছেন। কিন্তু কখনোই শুধু দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে নাই । জীবন ভাবে মানুষ কেন অমানবিক নির্যাতন করে? তার ভাবনার মধ্যে হটাৎ রবীন্দ্রনাথের কথাটা স্বরণ হল। তার মনে আছে হৈমন্তী গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ‘আমাদের দেশে যে মানুষ একবার বিবাহ করিয়াছে বিবাহ সম্বন্ধে তাহার মনে আর কোনো উদ্বেগ থাকে না। নরমাংসের স্বাদ পাইলে মানুষের সম্বন্ধে বাঘের যে দশা হয়, স্ত্রীর সম্বন্ধে তাহার ভাবটা সেইরূপ হইয়া উঠে ।’ কথাটার অর্থ জীবন উৎঘাটন করতে পারল না। ভাবনার রাজ্য থেকে জীবন জীবনের প্রয়োজনে তার কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করল।

অফিসে পৌছেও তার আর কিছুই ভাল লাগছে না । প্রতিদিনের মত খবরের কাগজ হাতে নিয়ে চোখ বুলাচ্ছেন। হঠাৎ একটি খবর তাকে আবারও সকালের চিত্রটি স্মরণ করিয়ে দিল। বিবাহিত নারীদের ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার নামে একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। মনোযোগ সহকারে জীবন খবরটি পড়তে লাগল। পড়া শেষে তার ভাবনা যেন বাড়তেই থাকে। সেই একই প্রশ্ন মানুষ কেন নির্যাতন করে ?

অনেক ভাবনার পর প্রশ্নটার একটা সাত্বনা উত্তর নিজে নিজেই তৈরী করল। প্রতিটা মানুষের জৈবিক চাহিদা থাকে । যে মানুষের মানবিকতা থাকে না তার মধ্যে পশুবৃত্ত অথবা পাশবিকতা থাকে। মানবিকতা না থাকার কারনে জৈবিক চাহিদা শেষে হিংস্রতা তৈরি হয়। তবুও তার উত্তরে শতভাগ সন্তুষ্ট হল না । সে ভাবে প্রকৃতি হয়ত এমন! এখানে মানুষ যা করবে তার কিছু ফল পৃথিবীতে ভোগ করতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here