গণপরিবহনে নারীদের চরম ভোগান্তি

0
গণপরিবহনে নারীদের চরম ভোগান্তি

গণপরিবহনে ভোগান্তি এখন নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পুরুষ যাত্রী ও চালক-হেলপাররা নারীদের যৌন হয়রানি, ইভটিজিং করলেও লজ্জা ও ঝামেলা এড়াতে বিষয়গুলো চেপে যান ভুক্তভোগীরা। অনেকে আবার প্রতিবাদ করেন। কিছুসংখ্যক নারীর প্রতিবাদের কারণেই কিছু ঘটনার খবর প্রকাশ পায়। মাফ চেয়ে রক্ষা পায় অপকর্মকারীরা।
এদিকে গণপরিবহনে আগে নারীদের জন্য পৃথক আসন থাকলেও যশোরাঞ্চলে চলাচলকারী বাস ও পরিবহনে সেটা এখন চোখে পড়ে না। অনেক নারী শিশুসন্তান নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করে যাতায়াত করেন। পুরুষের সাথে ঠেলাঠেলি করেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। বিষয়টি সবাই জানলেও নারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগের বিষয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শ্রাবণীর বাসা কালীগঞ্জের বারোবাজারে। তিনি বাড়ি থেকে বাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু যাতায়াতের সময় খুব কমদিন বাসের সিটে বসার তার সুযোগ মেলে। প্রায় দিনই বাসে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। কষ্ট দেখেও পুরুষরা সিট ছেড়ে বসতে দেন না। তিনি বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে শিক্ষার্থী ভাড়া নেয়া হয় অথচ ছাত্রীদের দিতে হয় সম্পূর্ণ ভাড়া। ছাত্রীরা শিক্ষার্থী ভাড়া নেয়ার কথা বললে বাসের হেলপার তাদের সাথে ঝামেলা করেন। তাদেরকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। তখন বাধ্য হয়েই সম্পূর্ণ ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তিনি আরও বলেন, একদিন বাসে বাড়ি ফেরার সময় মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি তার গা ঘেঁষে দাঁড়ায় এবং অশ্লীলভাবে তাকায়। কোনো প্রতিবাদ না করে তিনি অন্যত্র সরে যান।

যশোর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সুমনা, সাদিয়া, তমা তিন বান্ধবী। তারা জানান, প্রতিদিন তাদের বাসে যাতায়াত করতে হয়। আর প্রায় প্রতিদিনই নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তারা জানান, গত সপ্তাহে বাসে এক পুরুষ যাত্রী এক নারী যাত্রীর গাঁ ঘেঁষে দাঁড়ায় এবং বারবার একজনকে স্পর্শ করছিলো। পিছনের সিটে বসে সুমনা ও সাদিয়া ব্যাপারটি লক্ষ্য করে আলপিন দিয়ে পুরুষটির হাতে আঘাত করে। তখন পুরুষটি লজ্জিত হয়ে হাত সরিয়ে নেয়। অন্য আর একদিন পেছনের সিটে বসা এক মেয়ের পাশে বসে এক পুরুষ উত্ত্যক্ত করছিল। এ সময় অন্যদের প্রতিবাদের মুখে সেটা বেশি দূর গড়ায়নি। এভাবে গণপরিবহনে নারী যাত্রীরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন।
যশোরের ঝিকরগাছা এলাকার কুন্দিপুর গ্রামের হোসনে আরা বলেন, হেলপাররা নারী যাত্রীদের বাসে উঠানোর সময় গায়ে হাত দেন। তাড়াতাড়ি উঠানোর নামে এটা তারা ইচ্ছা করেই করেন। বিশেষ করে তরুণীদের সাথে এমন আচরণ করা হয়। একই অভিযোগ করেন সদরের নতুনহাট কলেজের ছাত্রী রোকসানা (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, কলেজের সামনে থেকে বাসে উঠার সময় হেলপার তাড়াতাড়ি উঠানোর নামে গায়ে হাত দেন। এ বিষয়ে একাধিকবার হেলপারকে সতর্ক করে দেয়া হলেও শোধরায়নি। শুধু হেলপারই নয়, কোনো কোনো পুরুষ যাত্রী তরুণীদের দেখলে উপযাজক হয়ে ‘আপা কোথায় যাবেন, চেনাচেনা লাগছে’ এমন ধরনের কথা বলে কাছে আসার চেষ্টা করেন। পুরুষরা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এমনটি করেন। তবে যশোর-সাতক্ষীরা রুটের আব্দুর রহিম নামে এক হেলপার বলেন, তারা ইচ্ছা করে কোনো নারীর গায়ে হাত দেন না। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আমাদের সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। এই সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করাই লাগে। নারীরা উঠতে দেরি করেন। অনেক সময় তাদের হাত ধরে বাসে উঠানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সূত্র মতে, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গণপরিবহনে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, বড় বাসে ৯টি, মিনিবাসে ছয়টি এবং বিআরটিসি বাসে ১৪টি আসন নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৭’-এর খসড়ায়ও বলা হয়েছিল, ‘গণপরিবহনে নারী, শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে তাদের বসতে না দিয়ে অন্য কেউ ওই আসনে বসলে তিনি এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’ কিন্তু যশোরের বাসে উঠে দেখা যায় সংরক্ষিত আসন বলে কিছুই নেই।
জানতে চাইলে, যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুন্ডু বলেন, ‘আগে প্রতিবাসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল। বাসে পুনরায় নারীদের আসন ও তাদের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের কাছে নির্দেশ এসেছে। আমরা সেই নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেক বাসে নারীদের সংরক্ষিত স্থান করার জন্য বাস মালিকদের বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারী যাত্রীরা আমাদের কারও না কারও মা-বোন। নারীরা যাতে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বাসে চলাচল করতে পারে এজন্য আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা চালক হেলপারদেরও এ বিষয়ে নির্দেশ দেবো।’

Desk Bangla
BANGLA DESK is an online portal. The innovation of science and intelligence of Technology, Diversity on climate change, Online life and livelihood, blogging and Blogger. An ultimate helping hand. There will be thousands of online portal every portal have their specialty as our BANGLA DESK giving you the recent collection of science’s innovation, how can you use technology in the best way, online life maintenance, importance of the Internet, online collection and profession, some professional tips and tricks. The everyday weather map is our new addition which can help you to find the Earth’s weather update no matter where you are. Climate change is the talk of the town where we do not only give you an idea or our thoughts but also future aspects and the settlement. And the best part of our writing we always try to give you the easiest definition because we believe all those are not my or your. We love to suppose IT’S OUR and we need your support to carry on our journey. One for all, all for one.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here