ইস্তাম্বুলের ইস্তেহার

84
সুজন দেবনাথ, অব্যয় অনিন্দ্য

লেখক: সুজন দেবনাথ

সুলতান সোলেমানের নগর ইস্তাম্বুল। এখানে গেলে সবারই সুলতান হতে মুঞ্চায়। প্রস্তাব করতেই বউও দেখি খুশি। এক দিনের বেগম হলে মন্দ কি! তো সুলতান সেজে সোলেমানের মত একটা পোজ দিতে উঠে দাঁড়ালাম। কিন্তু বউ চোখ পাকিয়ে বললো, সুলতান হইছ – ভালো কথা, কিন্তু হারেমখানা আর নাই। সেই দিন ফুরায়া গেছে।
আহা, কি আর করা? সুলতান হইয়্যাও নাকি আর লাভ নাই। দিন ফুরায়া গেছে।
দিন ফুরালেও ইস্তাম্বুলের ইতিহাস ফুরায় নাই। এশিয়া আর ইউরোপের প্রান্ত ছুঁয়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে বয়ে চলছে বসফরাস। একদিন এটি ছিলো গ্রীক নগর। পারস্যরা এই পথ দিয়েই ইউরোপে ঢোকে। তাদের থেকে কেড়ে নেন আলেকজান্ডার। তারপর রোমান সম্রাট কনস্টাইন শহরটিকে দেখল করেন। তিনি খ্রিস্টধর্মকে রোমান সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রধর্ম করেন আর নিজেকে সাচ্চা খ্রিস্টান বলে ঘোষণা করেন। সাচ্চা খ্রিস্টান সম্রাট কনস্টাইনের কাছে তার রাজধানী রোমকে বড়ো অপবিত্র মনে হলো। রোমের সবখানে গ্রিক আর রোমান মিথোলজির দেবদেবীদের ছোঁয়া আছে। তাই এই নগর একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের রাজধানী হতে পারে না। তিনি রোম থেকে রাজধানী সরিয়ে নিলেন। নতুন রাজধানী করলেন এই গ্রীক নগরে। নগরের নতুন নাম দিলেন কনস্টান্টিনোপল। সেই থেকে অনেক বছর এই নগর ছিলো ইউরোপে খ্রিস্টিয় সাম্রাজ্যের প্রধান কেন্দ্র। রোমান এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী।

১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল জয় করেন ওসমানী বা অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমেত। তিনি নগরের নতুন নাম দেন ইস্তাম্বুল।

ইস্তাম্বুলকে ঘিরে গড়ে ওঠে খেলাফত। প্রায় ৬ শতক অটোমানরা শাসন করে এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকা তিন মহাদেশের বিশাল সাম্রাজ্য। ইউরোপে ইসলামের সুবর্ণ সময়ের কেন্দ্র এই ইস্তাম্বুল। এই নগর থেকেই তৈরি হয় সুলতান সুলেমানের মত বিখ্যাত সব শাসক। ইসলামী স্থাপত্য আর গৌরব চূড়ায় উঠেছিলো এই নগরে। সারা নগর জুড়ে সেসব ঐতিহ্য আর স্থাপনা ছড়ানো আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশরা অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে অনেকগুলো দেশের সৃষ্টি করে। সময়ের বিবর্তনে তুর্কিরা এখন আবার স্বপ্ন দেখছে – ইস্তাম্বুল ঘিরে আবার নতুন দিন আসবে।
গ্রীক, রোমান, খ্রিস্ট, ইসলাম – এতোগুলো সংস্কৃতির সোনালী সময় দেখেছে ইস্তাম্বুল। সেসব কথা বলতে ইস্তাম্বুল সুযোগ পেলেই ডাক দেয় সারা পৃথিবীর মানুষকে।