অর্থনীতির সর্বোচ্চ সম্মান পাচ্ছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ২০১৯

২০১৯-এর অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও  এস্থার ডাফলো, মাইকেল ক্রেমার।  বিশ্ব জুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ নিয়ে পরীক্ষানীরিক্ষামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল ২০১৯ পেলেন তিন অর্থনীতিবিদ। ঘটনাক্রমে ২০১৯-এর আরেক নোবেলজয়ী এস্থার ডাফলো এবং অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বামী-স্ত্রী। এই মুহূর্তে দুজনেই ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে অধ্যাপনা করছেন। আরেক নোবেলজয়ী ক্রেমার যুক্ত রয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, অর্থনীতির সর্বোচ্চ সম্মানকে নোবেল পুরস্কার বলা যায় না। এর পোশাকি নাম- সভেরিজেস রিক্সব্যাঙ্ক সম্মান। নোবেল কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটেই এর উল্লেখও রয়েছে। নোবেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, “এ বছরের নোবেল বিজেতাদের গবেষণা দুনিয়াভর দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের শক্তি বর্ধন করেছে। মাত্র দু দশকে তাঁদের নতুন গবেষণা ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নের অর্থনীতিতে রূপান্তর এনেছে, যা বর্তমানে গবেষণার এক উদীয়মান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।” নোবেল পুরস্কারের মুখপাত্র এর তথ্য মতে, “এই অর্থনীতিবিদদের বৈশিষ্ট্য হল, উন্নয়ন অর্থনীতির সমস্যাগুলি নিয়ে বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যাপারে তাঁরা সমস্যাজনক সেইসব অংশগুলিকেও ক্ষুদ্রতর অংশে ভেঙে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন কোন নীতি কাজ করছে, কোন নীতি কাজ করেনি।”
উদাহরণ, স্কুলে যেসব শিশুরা যাচ্ছে তারা যথেষ্ট শিখছে না কেন। অভিজিৎরা এ বিষয়টিকে ভেঙে নিয়ে দেখতে চেয়েছেন, আর কী দেওয়া হলে, এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করা যায়। এক্ষেত্রে একটা জিনিস যেমন পাঠ্যবই। কিন্তু তাঁরা এও দেখেছেন শুধু বই দেওয়াই যথেষ্ট নয়,  স্কুলগুলিকে বিনামূল্যে সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ফিল্ড এক্সপেরিমেন্টের প্রয়োজন হয়েছে এবং বোঝার প্রয়োজন হয়েছে যে একটি ক্ষুদ্র নীতির উদ্যোগগ্রহণ কার্যকরী হচ্ছে কি না এবং যদি না হয়, তাহলে কেন তা হচ্ছে না ?
এই ভাবে সমস্যাকে দেখার ফলে সারা পৃথিবীতে কোন নীতি কাজ করছে এবং কোন নীতি পরিত্যাগ করা উচিত তা বোঝার ক্ষেত্রে গবেষকদের  সুবিধে হয়েছে। এই ঘোষণার পরেপরেই ডাফলো বলেন “মানুষ দরিদ্রদের উপহাসের পাত্রে পরিণত করে ফেলেছেন, তাঁদের সমস্যার শিকড় না বুঝেই… (আমরা স্থির করি) সমস্যা বোঝার চেষ্টা করব এবং প্রতিটি বিষয়কে বৈজ্ঞানিকভাবে এবং খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করব।”

আরো পড়ুন: অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার 

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর ৪র্থ বাঙালির নোবেল জয়। কলকাতায় জন্ম নেওয়া অভিজিৎ শুধু একাই নন, তাঁর স্ত্রী ফরাসি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলোও এবার নোবেল পেয়েছেন। ৫৮ বছরের অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কুল জীবন কেটেছে কলকাতাতেই। সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে পাশ করে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৩ সালে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই মার্কিন নাগরিক। অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক।

১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমআইটির শিক্ষকতার পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত অভিজিৎ।  আব্দুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের সহ প্রতিষ্ঠাতা, ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশনের গবেষক ও কনসোর্টিয়াম অন ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমস অ্যান্ড পোভার্টির সদস্য। মা নির্মলা ব্যানার্জি ও বাবা দীপক ব্যানার্জির সন্তান অভিজিৎ। তাঁর মা নির্মলা কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতির অধ্যাপক। বাবা দীপক ব্যানার্জি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here